LOCK-DOWN POEM PART-(1) By MD Nazmul Akon
করোনা ভাইরাসের কারনে সরকার দ্রুত লকডাউন করে দিয়েছে সব কিছু। ফাকা রাস্তায় ছোটন খোকা মাথায় ঝাকা নিয়ে হাটছিলো।
আকাশে তিব্র রোদ, ঘামে একাকার সে।
তখন এক পথচারী তাকে থামিয়ে জিগ্যেস করলো।
নাম কি তোর? ছোটন খোকা।
মাথায় কিরে? আলুর ঝাকা।
পেলি কোথায়? নিছি কুরিয়ে।
করবি কি তা? খাব পুড়িয়ে।
মারবে না মা? না সেও খাবে।
বলিস কিরে? চাল কৈ পাবে।
কি খেয়েছিস? খাইনি কিছু।
খাসনি কেন? কুড়িয়ে লিচু।
তা কি করলি? বেচবো হাটে।
কিনবে কেউ? দেখি কি জোটে।
স্কুলে যাসনে? খোলেনি আর।
পড়িস কিসে? কেলাস চার।
বাবা কি করে? যায়না কাজে।
যায়না কেন? ভাঙ্গা পা যে।
তো! মা কি করে? বুয়ার কাজ।
কখন ফিরে? পেরোলে সাঝ।
কুড়াস কেন? মায়ের জ্বর।
তা কবে থেকে? কাজের পর।
বড়ি নিছিস? নেইতো টাকা।
সাব দেয়নি? গেছেন ঢাকা।
ত্রান পাসনি? দেয়নি কিছু।
নেতা কি বলে? ছাড়তে পিছু।
মোড়ল কোথা? নেয়না খোজ।
যাসনি তুই? তারায় রোজ।
কেন তারায়? সাহায্য নাই।
ত্রানের চাল? ঘর বোঝাই।
দেয়না কেন? হয়না তার।
এত কি করে? জানিনা আর।
[পথচারী নিজের মতো করে চলে গেলেন।]
ছোটন খোকাও ফিরলো ঘরে।
তার মায়ের খুব জ্বর। বাসায় রান্নার মত কিছুই নেই। থাকলেও রান্না করার মত অবস্থা নেই তার মায়ের।
আর ছোটন খোকাতো খুবই ছোট তাই রান্না করাটা তাকে দ্বারা হবেনা।
আলু পোড়া খেতে ছোটন খুবই ভালোবাসে।
তাই মায়ের জন্য বাজারের আরৎ এর ফেলে দেয়া আলু গুলো কুড়িয়ে এনেছে। পাশের বাসার চাচির উনুন থেকে পুড়িয়ে বাসায় ঢুকতেই মা বললেন।
খোকন সোনা? নাও দু জোরা।
কি এনেছিস? আলুর পোড়া।
করবি কি তা? খাইবে তুমি।
লবন কোথা? আনছি আমি।
বাবাকে দাও? এইতো দিচ্ছি।
খাওনা কেন? এইতো নিচ্ছি।
পেট ভরেছে? খাবোনা আর।
কখন খাবি? সন্ধার পর।
কোথায় যাবি? হাটের কাছে।
লিচু কোথায়? পাশেই আছে।
কটা আসবি? ঘন্টা খানিক।
বেচবি কাকে? কিনে বনিক।
মোড়লের বাগানের লিচুর গাছের তলায় অনেক লিচু পড়ে থাকে। কেউ সেগুলো ছোয় না মাটিতে পরে পঁচে যায়। সেখান থেকে কিছু লিচু কুড়িয়ে এনেছে খোকন।
তা নিয়ে হাটের দিকে রওনা হয়েছে। তার ধারনা হাটের বনিকরা তার লেচু কিনবে। তারপর দেখা যাক কি হয়।
দাম কত রে? পঁচিশ টাকা।
দশ টাকা নে? হবেনা কাকা।
কম হবেনা? দু টাকা কম।
সব দিবিতো? হ্যা, একদম।
তার লিচু বিক্রি হয়েগেল খুব সহজেই এবার ফার্মেসি থেকে জ্বরের ঔষধ কিনতে গেল খোকন।
বড়ি দিনতো! কিসের বড়ি?
জ্বর হয়েছে! ছলচাতুরী?
না না কাকু! কার লাগিয়া?
মায়ের জন্য! যায় মরিয়া?
কেমন কথা! জ্বর কি বেশি?
হু কাকুজান! বড়ি বিদেশী?
যা ভালোহয়! ত্রিশ টাকা দে।
এতো তো নাই! দেশি টাই নে।
দিন তাহলে! আনলি কত?
তেঁইশ টাকা! লাগেনা অত।
তো কত দিব! বিশ টাকা দে।
নিন তাহলে! এই বড়ি নে।
খোকন বড়ি নিয়ে চললো বাড়ির দিকে। তার বুক ভরা স্বপ্ন তার স্কুল খুললে প্রতিদিন স্কুলে যাবে। কিন্তু কি আর করার লকডাউনে সব কিছু বন্ধ হয়ে আছে। এদিকে তার মায়ের খুব জ্বর, বাবা অক্ষম, বাবা মা ছারা তার আর কেউ নেই। চাচারা ওদের খোজ নেয়না। আর নিবেইবা কেন এত ছোট লোকের সাথে তাদের সম্পর্ক থাকলে লোক কি বলবে। তাদের সমাজে তো মুখ দেখাবার যায়গা থাকবে না।
ছোটন খোকা! ডাকিস কেন?
মোড়ল ডাকে! আমায় কেন?
চুরির জন্য! কিসের চুরি?
তাতো জানিনা! ছলচাতুরী?
ছোটনের বন্ধু তাকে ডেকে বললো তাকে চুরির দায়ে মোড়ল ডাকছে। কিন্ত সে তো চুরি করেনি। তাহলে মোড়ল কেন ডাকলো তা বুঝে উঠতে পারলোনা। হয়তো তার বন্ধু ছলচাতুরী করেছে ওর সাথে তাই ভেবেই সে বাড়ির দিকে রওনা হলো।
বিকেলের আকাশে রক্তিম আভা দেখা দিয়েছে। পাখিরা ফিরছে যার যার ঘরে। আধার ছুই ছুই করা সন্ধা নামবে নামবে করছে। ফাকা রাস্তায় মায়ের জন্য ঔষধ নিয়ে এগিয়ে চলেছে খোকন।
বাকিটা পরের পর্বে...

কোন মন্তব্য নেই